নেপালে আমাদের অবস্থানকালে পত্রপত্রিকায় যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে তাও রাজনীতি বা রাজনীতিকদের জন্য সম্মানজনক নয়
কাঠমান্ডু পোস্ট-এ চীনা দূতাবাসের জনৈক কর্মকর্তার সঙ্গে মাওবাদী এক নেতার কথোপকথনের বিবরণ ছাপা হয়েছে যাতে মাওবাদী নেতা অন্য দল থেকে সাংসদ কেনার জন্য ৬০ লাখ রুপি চেয়েছেন
নেপালি গোয়েন্দা বিভাগ কথোপকথনের টেপ উদ্ধার করেছে
চীনাপন্থী বলে পরিচিত মাওবাদীরা চীনের কাছে এই অর্থ চেয়েছে যাতে নেপালি কংগ্রেস ক্ষমতায় আসতে না পারে
সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে দুই কমিউনিস্ট পার্টির তিন দফা সমঝোতা চুক্তি সইয়েও চীনের ভূমিকা আছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন
অন্যদিকে রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতও কাঠমান্ডু এসেছিলেন
নেপালের সাধারণ মানুষ এসব তৎপরতা সুনজরে দেখছে না
নাগরিক সমাজের কোনো কোনো প্রতিনিধি মনে করেন নেপালের রাজনীতি এখন সীমান্তের বাইরে চলে গেছে
ব্যবসা-বাণিজ্য চাকরি ইত্যাদি ব্যাপারে দেশটি ভারতের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল
বেশ কয়েক বছর আগে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনোমোহন অধিকারী এই নিবন্ধকারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন আমরা শুধু ভূমি দ্বারা অবরুদ্ধ নই ভারত দ্বারাও অবরুদ্ধ
মেক্সিকোর সাধারণ মানুষ যেমন ভাবে তারা আমেরিকা দ্বারা শোষিত তেমনি নেপালের জনগণও মনে করে ভারত তাদের শোষণ করছে
নিজেকে ফ্রিডম পার্টির নেতা হিসেবে পরিচয়দানকারী বিক সম্রাট সিং আলাপ প্রসঙ্গে বলেছেন আমরা ধর্ম ও বিপ্লব—দুটিই চাই
বাইরের সংস্কৃতি নেপালের সংস্কৃতির প্রাণভোমরাটিকে গলা টিপে হত্যা করছে এর বিরুদ্ধে আমাদের দাঁড়াতে হবে
একই সঙ্গে সাম্যভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে
একদা আবুধাবিতে বসবাসকারী এই তরুণ বলেন সব ধর্মে শান্তির কথা থাকলেও পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী শক্তি একে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করছে
তাঁর শেষ মন্তব্য ছিল ধর্মানুরাগী তরুণ নেতৃত্বই নেপালকে বাঁচাতে পারে
তাঁদের হাতে দেশের নেতৃত্ব না দিলে একসময় হয়তো চীন ও ভারত দেশটি ভাগাভাগি করে নেবে
এত দিন তরুণ মুসলিম জঙ্গিদের কণ্ঠে যেসব কথা শুনেছি তাঁর কণ্ঠে একই প্রতিধ্বনি লক্ষ করে বিপদের আশঙ্কা করি
নেপাল কংগ্রেস বা সিপিএন-ইউএমএলের কাজকর্ম সম্পর্কে সে দেশের জনগণ মোটামুটি ওয়াকিবহাল
তারা একাধিক মেয়াদে ক্ষমতায় থেকেছে তারা কতটা পারবে না-পারবে সে সম্পর্কেও তাদের মোটামুটি ধারণা আছে
তাদের কাছে খুব বেশি প্রত্যাশা নেই
কিন্তু যে মাওবাদী পার্টি বিপ্লবকালে জনগণকে আকাশচুম্বী স্বপ্ন দেখিয়েছে মুক্তাঞ্চলে তারা জোতদারদের জমি কৃষকদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছে ক্ষমতায় গিয়ে দেখেছে পরিবর্তন আনাটা কত কঠিন
তাদের স্লোগান ছিল রাজতন্ত্রের পতন
রাজতন্ত্রের পতন হওয়ায় প্রচণ্ড ও তাঁর সহযোগীরা ক্ষমতার ভাগীদার হয়েছেন কিন্তু যে হাজার হাজার তরুণ তাঁদের কথায় অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন তাঁরা কিছুই পাননি
তাঁদের অবস্থান হয়েছে জাতিসংঘ মিশনের তত্ত্বাবধানাধীন ক্যাম্প
এ কারণেই মাওবাদীদের প্রতি সাধারণ ও শ্রমজীবী মানুষের সমর্থন কমে গেছে
কেবল নেপাল নয় আরও যেসব দেশে সশস্ত্র উপায়ে ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে সেসব দেশেও জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি
আজ ভারতে মাওবাদীরা আদিবাসীসহ প্রান্তিক মানুষগুলোকে যে স্বপ্ন দেখাচ্ছে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলেও তা পূরণ করতে পারবে সে কথা কেউ বিশ্বাস করে না
ফলে বিপুল ও বিশাল জনগোষ্ঠী যাঁদের হুকুম তামিল করে হাতিয়ার হাতে নিয়ে প্রতিশোধস্পৃহায় সবকিছু তছনছ করে দেয় তাঁরা জানেন না বিপ্লবের পর কী হবে
পোখরার ফেওয়া লেক-এ নৌকার হাল ধরেছিল কুল বাহাদুর নামে যে হাসিখুশি মুখের যুবক তাকে জিজ্ঞেস করলাম রাজনীতিক সম্পর্কে তোমার ধারণা কী সে চটপট জবাব দিল বহুত গরবর হ্যায়
উন্নয়নশীল দেশের গণতন্ত্র তথা রাজনীতিকদের সঙ্গে জনগণের এই দূরত্ব ক্রমেই বেড়ে চলেছে
সাংবাদিক নিত্যনন্দ তিনসিনা হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন তথাকথিত নবনেপালের কারিগরেরা যদি জনগণকে  অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে এবং সামাজিক সাম্য নিশ্চিত করতে না পারেন সেটি হবে দেশ ও জাতির জন্য চরম বিপর্যয়
কাঠমান্ডু পোস্ট ১৪ সেপ্টেম্বর সম্পাদকীয়তে সেই অবিস্মরণীয় উক্তিই করেছে যা প্রায় সব উন্নয়নশীল দেশের রাজনীতি ও রাজনীতিকদের জন্য প্রযোজ্য জনগণের কাছে এটি প্রতিভাত যে রাজনীতিকেরা তাদের জনগণ আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মোটেই ভাবেন না তাঁরা রাষ্ট্রকে নিজেদের সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে ব্যবহারে পারঙ্গম এবং সেটি করতে চান অনন্তকাল ধরে
নেপালে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত জন টানক্যানট এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন রাজনৈতিক দলগুলো একের পর এক বৈঠক করে যাচ্ছে
এখন এমন একজন নেতা প্রয়োজন যিনি বলতে পারবেন সমাধান বের করতে হবে
নেপালের রাজনীতিকেরা কি নেপালবাসীকে আশার আলো দেখাবেন না ক্ষমতার লড়াইয়ে অনাদিকাল ব্যাপৃত থেকে তাদের সামনে মুলো ঝুলিয়ে রাখবেন
এ ক্ষেত্রে সদ্য রণাঙ্গন ত্যাগ করা মাওবাদী পরীক্ষিত বামপন্থী সিপিএন-ইউএমএল কিংবা ঐতিহ্যবাহী নেপালি কংগ্রেসের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য খুবই কম বলে অধিকাংশ নেপালবাসী মনে করে
নেপালের সাম্প্রতিক রাজনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনীতির মিল-অমিল দুটিই আছে
নেপালে ও বাংলাদেশে প্রায় একই সময়ে গণতন্ত্রের নবযাত্রা সূচিত হয় ১৯৯১ সালে
এর মধ্যে নেপালে অনেক রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটেছে রাজতন্ত্রের পতন হয়েছে
বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক রাজতন্ত্র নেই তবে কারও মতে যা চলছে তা রাজতন্ত্রের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়
আরেকটি পার্থক্য হলো নেপালে এত কিছুর পরও কোনো দল সংসদ গণপরিষদ বর্জন করেনি
বাংলাদেশের রাজনীতিকেরা বিরোধী দলে থাকলে সংসদে যেতে পছন্দ করেন না
আবার সরকারি দলে থাকলে অন্যের সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতাও তাঁরা অর্জন করতে পারেননি
সোহরাব হাসান কবি সাংবাদিক

স্মরণ
পুঁথির জন্য জীবনপাত
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের গবেষক আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ প্রাচীন পুঁথি সংগ্রহ ও সাহিত্যের ঐতিহ্য অন্বেষণের ক্ষেত্রে এক বিরল ব্যক্তিত্ব
উচ্চশিক্ষা বলতে যা বোঝায় আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের তা ছিল না
ঐশ্বর্যের মধ্যে তিনি লালিত-পালিত হননি—জীবনকাল অতিবাহিত হয়েছে দুঃখ-দুর্দশা অভাব-অনটনে
যত দিন যাচ্ছে বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস বিনির্মাণে তাঁর কাজের গুরুত্ব ক্রমে স্বীকৃতি পাচ্ছে
আজ তাঁর ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী
উপমহাদেশের বরেণ্য পুঁথিগবেষক ১৮৭১ সালের ১১ অক্টোবর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন
মাতৃজঠরে থাকতেই আবদুল করিম পিতৃহীন হন
তাঁর চাচা আছিরুদ্দীনের স্নেহে লালিত-পালিত হন তিনি
স্থানীয় সুচক্রদণ্ডী বঙ্গ বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয় তাঁর
১৮৯৩ সালে তিনি স্থানীয় পটিয়া ইংরেজি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এন্ট্রান্স পাস করেন
উচ্চশিক্ষার অর্জনের জন্য তিনি চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হন
এফএ বর্তমান এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার আগেই শারীরিক অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে তাঁকে পড়ালেখা ছেড়ে দিতে হয়
তবে এর মধ্যেই সংস্কৃত ভাষায় তিনি পাণ্ডিত্য অর্জনে সক্ষম হন
সাহিত্যবিশারদের কর্মজীবনের সূচনা শিক্ষকতা দিয়ে
তিনি চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল হাইস্কুল এবং পরে সীতাকুণ্ড হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন
সরকারি চাকরির মোহেই তিনি শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে চট্টগ্রাম জজ কোর্টে কেরানির পদে চাকরি করেন
তখন কমিশনারের প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে কাজ করেছিলেন কবি নবীনচন্দ্র সেন
নবীন সেন আবদুল করিমের লোকসাহিত্যপ্রীতি ও তাঁর সাহিত্য-প্রতিভার খবর জানতেন
সে কারণে তিনি আবদুল করিমকে স্নেহ করতেন
আবদুল করিম স্থানীয় জ্যোতি পত্রিকায় এক বিজ্ঞপ্তি ছাপালেন যাঁরা আমাদের হাতের লেখা পুঁথি সংগ্রহ করে দেবেন তাঁদের বিনা মূল্যে এক বছর জ্যোতি পত্রিকা দেওয়া হবে
তাঁর বিশ্বাস ছিল প্রাচীন পুঁথিগুলো সংগৃহীত ও উপযুক্তভাবে সংরক্ষিত না হলে প্রাচীন সাহিত্যের বিপুল ভান্ডার লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে যাবে হারিয়ে যাবে ঐতিহ্যের মূল্যবান উপকরণ
তাই শারীরিক-সাংসারিক কষ্ট স্বীকার করে বহু লাঞ্ছনা ও অপমান সহ্য করে পুঁথি সংগ্রহ করেছেন তিনি
ছোটকালে তাঁর বাড়িতে অনেকবার পুঁথির আসর বসেছে
পুঁথির প্রতি তাঁর একটা আগ্রহ তৈরি হয়
প্রথম যে পাণ্ডুলিপিটির সন্ধান পান তিনি সৌভাগ্যক্রমে সেই পুঁথি ছিল আলাওলের পদ্মাবতী
তখন তিনি আনোয়ারা স্কুলে শিক্ষকতা করতেন
ওখানে এক চাষির ঘরে তিনি পুঁথিটি পান
এই পুঁথির আবিষ্কার তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় নতুন পুঁথি আবিষ্কারের নেশা তাঁকে পেয়ে বসে
সাহিত্যের গবেষণায় তিনি সম্পূর্ণভাবে নিজেকে নিয়োজিত করেন
তাঁর কাজের ফলে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নতুন করে লেখার প্রয়োজন পড়ে
তাঁর সংগৃহীত পুঁথির সংখ্যা আড়াই হাজারেরও অধিক বলে জানা যায়
এর মধ্যে মুসলিম কবি রচিত পুঁথির সংখ্যা এক হাজার দুই শয়ের ওপরে বলে অনুমান করা হয়
পুঁথি সংগ্রহ করেই তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না
পুঁথি তিনি সম্পাদনা করেছেন পুঁথির পরিচিতি লিখেছেন এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নিরন্তর লিখে গেছেন
তিনি প্রায় ৬০০ মৌলিক গবেষণামূলক প্রবন্ধ পত্রপত্রিকায় প্রকাশ করেন যার প্রধান বিষয় ছিল মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য
সে সময়কার প্রধান প্রধান পত্রিকায় তাঁর প্রবন্ধ প্রকাশিত হতো
সাধনা কোহিনুর নবনূর বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা এডুকেশন গেজেটের মতো উন্নত পত্রিকায় তাঁর রচনা ছাপা হতো
একাধিক পত্রিকার তিনি সম্পাদক ছিলেন
তিনি তাঁর বিপুল সংগ্রহ থেকে প্রায় ৬০০ পুঁথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করেন
আরও ৪৫০টি পুঁথি তাঁর উত্তরাধিকারী হিসেবে অধ্যাপক আহমদ শরীফ দান করেন বরেন্দ্র মিউজিয়ামে
শুধু সংখ্যা দিয়ে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের সংগ্রহের তাৎপর্য উপলব্ধি করা যাবে না
এই সংগ্রহের ফলেই মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের বহু অপরিজ্ঞাত কবি অজ্ঞাতপূর্ব কাব্য ও অপরিচিত তথ্যের সঙ্গে আমরা পরিচিত হয়েছি
শাহ্ মুহাম্মদ সগীর জয়নুদ্দীন সৈয়দ সুলতান দৌলত উজীর বাহারাম খান মুহাম্মদ কবীর শাবিরিদ খান শেখ চাঁদ মুহাম্মদ খান আলী রাজা প্রভৃতি কবির কথা তাঁর মাধ্যমে জানা গেছে
শ্রীধরের বিদ্যাসুন্দর কিংবা ভবানী  গোপীচন্দের পাঁচালী তাঁরই সংগৃহীত
আজীবন সাহিত্যসাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ চট্টগ্রামের সুধীসমাজ তাঁকে সাহিত্যবিশারদ এবং নদীয়ার পণ্ডিতসমাজ তাঁকে সাহিত্যসাগর উপাধি দেন
সাহিত্যবিশারদ প্রথম সংগ্রাহক যিনি অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের কবিদের রচিত পুঁথি সংগ্রহ করেছেন
তদানীন্তন ব্রিটিশ-শাসিত পূর্ববাংলায় সাহিত্যবিশারদ একমাত্র সাহিত্যব্যক্তিত্ব যিনি মধ্যযুগের রচিত বাংলা সাহিত্যের পুঁথি সংগ্রহে আত্মনিয়োগ করেন
তাঁর অবদানের কথা উল্লেখ করে আহমদ শরীফ বলেন তাঁর সংগৃহীত পুঁথিই আজ সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে মুসলমানদের মুখ রক্ষা করেছে
দীর্ঘদিন তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন
এ কর্মীপুরুষ ১৯৫৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মারা যান
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি
মডেল টেস্ট-৬  অংশ-৫
